বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

বিশেষ আপন নিউজ প্রতিবেদকঃ
করোনা পরিস্থিতিতে হতদরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারকে খাদ্য সহায়তা বিতরনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানছেন না স্থানীয় সরকারের জন প্রতিনিধি সহ ওয়ার্ড পর্যায়ে গঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। এতে অসহায় দুস্থদের জন্য সরকারের পরিচালিত ত্রান কার্যক্রম শতভাগ সফল করা যাচ্ছেনা। নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরা দুস্থ তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারী সেবা সুবিধা।
ফলে প্রকৃত হতদরিদ্র ও কর্মহীন বিপুল পরিবার বঞ্চিত হচ্ছে সরকারী সেবা সুবিধা থেকে। যারা করোনা পরিস্থিতিতে বিপাকে রয়েছে। আর দুস্থ তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করে দুর্যোগ ও ত্রান বিভাগের জরুরী খাদ্য সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সেবা সুবিধা, সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর সুবিধা প্রাপ্তির পর জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্য, স্বজন, অনুসারী, দলীয় নেতা-কর্মীরা পুন:রায় পেতে যাচ্ছে হতদরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর নগদ ২৫শ’ টাকার অর্থ সহায়তা। এতে যে পাচ্ছে
সে একাধিক বার পাচ্ছে, আর যে পাচ্ছে না সে একবারও পাচ্ছেনা। অনেকটা যেন’তেলা মাথায় তেল দেয়া’র মত অবস্থা।
এর আগে কোভিড-১৯’র সংক্রমন এড়াতে সরকারী নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে দীর্ঘ দিন ঘরে অবস্থান করায় কর্মবিমূখ হয়ে পড়ে নিন্ম আয়ের হতদরদ্রি পরিবার গুলো। স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের জরিপে কলাপাড়ার ১২ ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভায় বসবাসরত ১৯০৫২ দুস্থ্য পরিবারের তথ্য উঠে আসে। এসব দুস্থ পরিবারের খাদ্য সহায়তা দিতে কলাপাড়ায় এ পর্যন্ত ২৪৯ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০লক্ষ ৪২ হাজার ৫২০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় জেলা দুর্যোগ ও ত্রান বিভাগ থেকে। যা দিয়ে উপজেলার ২৪ হাজার ৯০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় দুর্যোগ ও ত্রান বিভাগ। এছাড়া দুস্থ পরিবারের শিশুদের জন্য শিশু খাদ্য হিসেবে ৪শ’ গ্রাম ওজনের ৮০০ প্যাক গুড়া দুধ এবং নগদ ৯৪ হাজার ৫৬০ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সূত্রটি। যা
দিয়ে ৪০০ দুস্থ পরিবারের শূন্য থেকে ৫ বছরের শিশুকে শিশু খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সাড়ে ১২হাজার দুস্থ পরিবার ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নগদ ২৫শ’ টাকার অর্থ সহায়তা পাচ্ছে। এতে দুস্থ পরিবারের কেউ সরকারী সেবা সুবিধার বাইরে থাকার কথা নয়। কিন্তু অধিকাংশ দুস্থ পরিবার বলছে সরকারী সহায়তা পায়নি। কেউ বলছে মাত্র একবার পেয়েছে।
আবার কেউ বলছে মেম্বর চেয়ারম্যানের কাছে ধর্না দিতে দিতে শেষ। তবে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী সেবা সুবিধা পাচ্ছে কারা? এমন প্রশ্ন দুর্যোগ ও ত্রান বিশেষজ্ঞদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, রিক্সা চালক, ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, রেষ্ট্রুরেন্ট শ্রমিক, ফেরীওয়ালা, চায়ের দোকানদার তথা দুস্থদের নিয়ে তালিকা তৈরীর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তি স্বার্থ, ভোট ও রাজনীতির স্বার্থে তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছে জনপ্রতিনিধি পরিবারের একাধিক সদস্য, স্বজন, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, স্বচ্ছল পরিবারের একাধিক সদস্য, দলীয় নেতা-কর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক সহ চাকুরীজীবীর নাম। এমনকি
পৌরশহরের বহুতল ভবন মালিকের নাম রয়েছে দুস্থ তালিকায়। রয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর নাম। ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদধারী নেতার নাম দেখা গেছে তালিকায়। সাবেক সাংসদ পুত্রের নাম রয়েছে দুস্থদের তালিকায়। স্বচ্ছল পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম দেখা গেছে তালিকায়। কয়েক জনপ্রতিনিধির পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম দেখা গেছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ২৫শ’ টাকা পাওয়ার তালিকায়। এমনকি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সেবা সুবিধা, সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ওএমএস, ফেয়ারপ্রাইস, রেশন কার্ড
প্রাপ্তির তালিকায়ও দেখা গেছে এসব নাম। যারা ধনী হয়েও দুস্থ তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করে কেড়ে নিচ্ছে গরীবের হক।
উপচেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের কাঠালপাড়া গ্রামের ইয়াছিন মুন্সী’র অভিযোগ, রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। এখন বেকার। পাঁচজনের সংসারে খাবার যোগান দিতে পারছেন না। করোনার কারনে বেকার এ মানুষটি খাদ্য সহায়তার জন্য ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। কলাপাড়া পৌরশহরের রিক্সাচালক শাহজাহান ওরফে পাঁচ পাই’র অভিযোগ, রিক্সা চালিয়ে সংসার চলে। রিক্সা বন্ধ তো খাওয়া চলে না। করোনা পরিস্থিতির লকডাউনে না খেয়ে চলছে তার। কাউন্সিলরের কাছে গিয়েও মেলেনি কিছু। উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে ইয়াছিন,।শহাজাহান’র মত অগনিত শ্রমজীবি মানুষ রয়েছে। যারা দিন এনে দিন খায়। তাদের দুর্দশা স্বচক্ষে না দেখে
বর্ননা করা কঠিন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৪মে) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ হতদরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারকে নগদ ২৫শ’ টাকা অর্থ সহায়তা দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা বি-ক্যাশ, রকেট ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে দুস্থ পরিবার গুলোর কাছে পৌঁছে যাবে। বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান মানুষ এবং নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষ করে ঘাট শ্রমিক, রিকশাওয়ালা, নির্মান শ্রমিক, নরসুন্দর, চায়ের দোকানদার, কুলি মজুরসহ দিন এনে দিন খাওয়া যেসব মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে তাদের জন্য কিছু নগদ অর্থ সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’আমরা আগেই আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় ভাতা ও ১০ টাকা কেজিতে চালের ব্যবস্থা করেছি।
ওই সুবিধা যারা পাচ্ছেন তাদের বাইরে যারা বর্তমানে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারাই কেবল এই সহায়তা পাবেন।’
অথচ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীত চিত্র। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পাওয়ার তালিকায় দেখা গেছে জনপ্রতিনিধির পরিবারের একাধিক সদস্য, স্বজন, অনুসারী, দলীয় নেতা-কর্মী, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, স্বচ্ছল পরিবারের একাধিক সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক সহ চাকুরীজীবীর নাম। এতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এড়িয়ে তালিকা তৈরীর অভিযোগ ওঠে। যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
দুস্থদের এ তালিকা প্রসঙ্গে জানতে কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহম্মদ শহিদুল হক’র মুঠো ফোনে একাধিকবার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply